ফ্রিল্যান্সিং কি | কিভাবে শুরু করব ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার (A to Z)

বর্তমানে অনেকেই পড়ালেখার পাশপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। অনেকে তো পেশা হিসেবেই বেছে নিচ্ছে ফ্রিল্যান্সিংকে। আজ আমরা জানব ফ্রিল্যান্সিং কি ও তার আদ্যপান্ত।

আমাদের যে বিষয়গুলো জানতে হবে

১। ফ্রিল্যান্সিং কি

২। ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব

৩। কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করব

৪। freelancing করে কত টাকা আয় করা যাবে

৫। আমি কি ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার করতে পারবো?

৬। কিভাবে শিখব ফ্রিল্যান্সিং?

৭। নতুনদের জন্যে ভাল মার্কেটপ্লেস কোনটি?

ফ্রিল্যান্সিং কি?

১৯৯৮ সালের দিকে প্রথম ফ্রিল্যান্সিং শুরু হয়। একটা অনলাইন মার্কেটপ্লেস খোলা হয় শুরুতে। সেই থেকেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরু। এই ধারণাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠার কারণ ছিল এখানে কোন অফিস টাইম নেই। যখন ইচ্ছে কাজ করলেই হলো। কাজের ধরনও বিভিন্ন রকম। ওয়েব ডিজাইনিং থেকে শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইনিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আর্টিকেল লেখা বা ডাটা এন্ট্রি সবকিছুই ফ্রিল্যান্সিংয়ের আওতাভুক্ত।

এখানে কাজ করতে হলে প্রথমে মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খুলতে হয়। ক্লায়েনেটর কাজ থাকে ফ্রিল্যান্সার কাজ বুুঝে নিতে হয়। একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করে ক্লায়েন্টের কাছে পাঠাতে হয়। এর আগেই পারিশ্রমিকের ব্যাপারে ক্লায়েন্টের সাথে চুুক্তি হয়। কাজ হয়ে গেলে ফিল্যান্সার তার প্রাপ্য বুঝে পান।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হলেঃ

ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে যে কোন একটি বিষয়ে আপনাকে পারদর্শী হতে হবে। আপনি যে কাজটি সবচেয়ে ভাল পারবেন সেটি নিয়েই মার্কেটপ্লেসে প্রবেশ  করবেন। ক্লায়েন্টদের বেশিরভাগই থাকে বিদেশী। তাই আপনাকে ইংরেজীতে পারদর্শী হতে হবে। এখানে যার যত বেশি দক্ষতা সে কাজ পাবার সম্ভাবনা তত বেশি।

এই কাজ করতে গেলে আপনার শুরুতে দরকার ইন্টারনেট। তারপর আপনি কি কি কাজ পারেন সেগুলো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াা সাইটসহ ফোরামে মার্কেটিং করতে হবে। নিজের দক্ষতা প্রচার করলে ক্লায়েন্টরা আপনার সম্পর্কে জানতে পারবে। এতে আপনার দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত প্রজেক্ট পাওয়অর সুুযোগ বেড়েযায়।

উদাহরণ হিসেবে বললে, আপনি ব্লগিং, এসইও এবং ওয়েবসাইট তৈরির কাজ জানেন। কিন্তু কেউ যদি আমার এই দক্ষতা সম্পর্কে জানতে না পারে তাহলে সে আমাকে কিভাবে হায়ার করবে? তাই ফ্রিল্যান্সিং এর ক্যারিয়ার শুরু করতে হলে প্রচুর মার্কেটিং করতেই হবে। আপনার ভাল কাজের ডেলিভারী আপনাকে ধীরে ধীরে ব্র্যান্ড হিসবে তুলে ধরবে।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করব

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরুর জন্যে নীচের স্টেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ

১। নিজের লক্ষ্য সেট করা

এই পেশায় আসতে হলে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাজের বিষয় ঠিক করতে হবে। এছাড়াও আপনি কত সময় কাজ করতে চান, এটা ফুল টাইম করবেন নাকি পার্ট টাইম এই বিষয়গুলো ভেবে নিতে হবে। এই সবকিু বিবেচনায় করে আপনাকে শুরু করতে হবে।

২। কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন?

দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপনি কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন সেটি ঠিক করতে হবে। কন্টেন্ট রাইটিং< ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভলাপমেন্ট, গ্রাফিক্স, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ নানা ধরনের কাজ আছে মার্কেটপ্লেসে।

আপনি কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন সেটি ঠিক করার আগে এ বিষয়গুলো মাথায় রাখুন

  • আপনার পছন্দ করা টপিকে আপনার পুরোপুরি ভাল লাগা আছে কিনা
  • সেই কাজটি কত  দ্রুত শখিতে পারছেন
  • মার্কেটপ্লেসে সেই কাজের চাহিদা কেমন
  • আপনি এটা ফুল টাইম করবেন নাকি পার্টটাইম
কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন

মার্কেটপ্লেস বলতে নির্দিষ্ট কোন একটি ওয়েবসাইটকে বোঝানো হয় যেখানে ক্লায়েন্টরা তাদের কাজের জন্যে পোস্ট করেন। অনেক মার্কেট প্লেসে তারা ফিল্যান্সারের বিড পর্যালোচনা করেন। ফ্রিল্যান্সার তার বিডে বিস্তারিত বলে দেয় যে, সে কয়দিনে কিভাবে কত টাকায় কাজটি শেষ করবে। ক্লায়েন্টের যাকে পছন্দ হয় তাকেই কাজ দেয়। কাজ শেষ হয়ে গেলে অর্থ তুলে নেওয়া যায়।

৫টি ভাল ফ্রিল্যান্সিং সাইট

 

  • ফাইবার– ফাইভার বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় একটি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট। এই মার্কেটপ্লেসের একটি অনন্য বেশিষ্ট্য হলো এখানে সব কাজ ৫ ডলার থেকে শুরু হয়। গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, প্রোগ্রামিংসহ ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ এখানে পাওয়া যায়।
  • আপওয়ার্ক- আপওয়ার্ক ফাইভারের চেয়ে একটু বেশি প্রফেশনাল এখানে ১৪ মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। প্রত্যেক বছর এখানে ৫ মিলিয়নের বেশি পোস্ট করা হয়। ফাইভারের মত এখানেও সব ধরনের কাজ পাওয়া যায়।
  • ফ্রিল্যান্সার- এখানেও সব ধরনের কাজের জন্যে ক্লায়েন্‌ট পাওয়া যায়। প্রায় ১৪৫০টি ক্যাটাগরিতে এখানে কাজের সুযোগ আছে। এর মধ্যে একাউন্টিং, ফাইন্যান্স, ইন্টারনেট মার্কেটিং, এসইও, ফটোশপ, গ্রাফিক্স, ওয়েব ডিজাইন, এপ তৈরিসহ অসংখ্যা কাজ রয়েছে।
  • গুরু- ৪০ লক্ষের বেশি মানুষ এই ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত আছে। নিজের একটি প্রোফাইল তৈরি করে এখানে কাজ শুরু করে দেওয়া যায়।

ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে গিয়ে কি করবেন?

প্রায় প্রতিটি সাইটেই নিজের একটি ভাল অপটিমাইজ করা প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। সেখানে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে পড়ালেখা, ছবি ও দক্ষতা যুক্ত করতে হয়। কয়েক লাইনে ক্লায়েন্টের কাজ কিভাবে করে দেবেন তার বর্ণনা দিতে হয়। বিভিন্ন পোর্টফেলিও সাইটে নিজের কাজের স্যাম্পল যুক্ত করে রাখলে সহজেই ক্লায়েন্টকে কাজের ব্যাপারে আশ্বস্থ করা যায়।

ফ্রিল্যান্সিং কি | কিভাবে শুরু করব ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার (A to Z)

ভালো ফ্রিল্যান্সার হতে হলেঃ

শুধু কাজ জানলেই হবে না ভালো ফ্রিল্যান্সার হতে হলে কাজটাও দক্ষতার সাথে করতে হবে। ক্লায়েন্টকে আকৃষ্ট করার মতন প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। নিজের কাজের পোর্টফোলিও জমা দিতে হবে।

ভাল প্রোফাইল তৈরি করতে হলে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

১। যেকোনো একটি নির্দিষ্ট কাজে এক্সপার্ট হতে হবে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতেও আউটসোর্টিং ট্রেনিং সেন্টার আছে। এছাড়াও নিজে হাতে কলমে শেখার সুযোগ আছে অনলাইন থেকে। ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়।

২। কোন কাজে দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে নিজের পোর্টফোলিও যোগ করতে হবে। যেমন গ্রাফিক্সের কাজ জানলে সুন্দর কয়েকটি গ্রাফিক্স ডিজাইন কোন পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে হবে।

৩। মার্কেটপ্লেসগুলোতে একাউন্ট খুলতে গেলে বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে হয়। খোলার পরও পরীক্ষা দেওয়া যায়। এই পরীক্ষাগুলো দিয়ে রাখলে ক্লায়েন্ট এর আস্থঅ অর্জন করা যায়।

৪। মার্কেটপ্লেস ছাড়াও পোর্টফোলিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লাগসহ বিভিন্ন ফোরামে শেয়ার করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে পরিচিতি বাড়বে। যেটি ফ্রিল্যাান্সিং ক্যারিয়ারের জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ক্লায়েন্ট পাওয়ার উপায়

কারো রেফারেন্সে সহজেই কাজ পাওয়া যায়। তবে এই ক্যারিয়েরর ক্ষেত্রে ধৈর্য্যটা সবচেযে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আছে শুরু করে কিন্তু কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে চলে যায়। লেগে থাকলে এখানে যে কেউ কাজ পাবে যদি সে কাজ জানে। অনেক ক্লায়েন্ট থাকে ছোট কাজ করানোর পর কাজ পছন্দ হলে দীর্ঘমেয়াদে কাজের চুক্তি করে ফেলে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিষয়ঃ

ফ্রিল্যান্সিংয়েরকাজকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। তুলনামূলক সহজ কাজের মধ্যে আছে ডাটা এন্ট্রি। তবে এই কাজের জন্যে প্রচুর প্রতিযোগীতা থাকে। অন্য যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো তলনামূলক কঠিন। যেমন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইনি। যেমন কঠিন তেমন পারিশ্রমিকও রয়েছে এসব কাজে। এই কাজগুলোতে প্রতিযোগীতা এখনো কম। পারিশ্রমিক নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপর।

কিভাবে পারিশ্রমিক বুঝে পাবেনঃ

প্রাপ্য অর্থ বিভিন্ন মার্কেটপ্রেসে বিভিন্নভাবে বুঝে নেওয়া যায়। তবে সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হলো ব্যাংক। বেশিরভাগ মার্কেটপ্লেস থেকে সরাসরি বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংক ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা যায়। তবে কিছু কিছু মার্কেটপ্লেসে অনলাইন পেমেন্ট নিতে হয়। Payoneer Prepaid Master কার্ড ব্যবহার করে সরাসরি মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা নেওয়া যায়। এই কার্ড ব্যবহারের বাড়তি সুুবিধা হলো এগুলো দিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করা যায়।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাধাঃ

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো উন্নত রাষ্ট্রগুলোর ছুটিরদিনসহ নানা কারণে লম্বা সময় ধরে কাজ থাকে না। অনেক সময় দেখা যায় দীর্ঘদিনের ক্লায়েন্ট কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এই পেশায় আসতে ভেবে চিন্তে আসা উচিত।

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

এই প্রশ্নের কোন সহজ উত্তর নেই। ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যাবে এর নির্দিষ্ট কোন সীমা নেই। যত বেশি কাজ করবেন আপানি তত বেশি টাকা  আয় করতে পারবেন। পেপাল এর একটা রিপোর্টনুসারে ভারতীয় ফ্রিল্যান্সরা গড়ে প্রত্যেক বছরে ৭০ লাখ টাকা আয় করছে।  বাকীরা ৫ থেকে ৭ লাথ টাতার ভেতর আয় করছে। বাকী ৫৪ % আড়াই লাখ টাকা করে আয় করছে।

তাই বলা যায় ঘরে বসেই আপনি দক্ষতা বিক্রি করে মাসে লাখ টাকাও আয় করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং কি কিভাবে শুরু করব ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার (A to Z)
ফ্রিল্যান্সিং কি কিভাবে শুরু করব ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার (A to Z)

ফ্রিল্যান্সিং কি শিখতে হবে?

 

মার্কেটপ্লেসে কিছু কমন কাজ আছে যেগুলো শিখে নিলে অনেক রকম কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। যেমন,

  • ট্রান্সলেটিং কোর্স- বর্তমানে বিভিন্ন ভাষা জানলে আপনি প্রচুর কাজের সুযোগ পাবেন। ভাষায় দক্ষতা থাকলে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়ও ভাল সিভি তৈরির কাজও রয়েছে।
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন- লোগো মেকিংসহ মার্কেটিংয়ের জন্যে গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একটু ডিজাইন সেন্স থাকলেই আপনি শিখতে পারেন এটিট।
  • ওয়েবসাইট তৈরি- ডিজিটাল এই যুগে সব ধরনেই ব্যবসাই এখন ওয়েবসাইটে চলে আসছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ওয়েবসাইটের চাহিদাও আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই ওয়েবসাইট হতে পারে আপনার জন্যে ভাল একটি সুযোগ।
  • আর্টকেল রাইটিং- আপনার যদি লেখার হাত ভাল হয় তাহলে আপনি বিভিন্ন ব্লগ লিখতে পারেন। এছাড়াও মার্কেটপ্লেস থেকে বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে গোস্ট পোস্টিং এর কাজ করতে পারেন।
  • ভিডিও এডিটিং- বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রমোশনের জন্যে ভিডিও ‍তৈরি করে থাকে। বর্তমানে এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছ্
  • ওয়েব ডেভলাপমেন্ট বা কোডিং- পিএইচপি, জাভা, সিএসএস আজকাল এই ল্যাংগুয়েজগুলো প্রচুর ডিমান্ড রয়েছে। আপনি ভাল মানের একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ জানলেই প্রচুর কাজ পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x
Close