ফরাসি ভাষা | কেন শিখব ফ্রেঞ্চ ভাষা

দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ফ্রেঞ্চ কেন জনপ্রিয় সেটা পরে বলছি। একটা সময় ছিল ইংরেজী ভাষা শিখলেই তার আর পেছনে ফিরে তাকতে হতো না। কিন্তু সময়টা এমন প্রত্যেক মানুষেরই ইংরেজীতে দক্ষতার প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে শুধু ইংরেজী শেখাই আর আগের মতন বিশাল সুযোগ নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে শিখতে হচ্ছে অন্য ভাষাও।
 
বিশ্বায়নের এ যুগে যারা একাধিক ভাষা জানে তারাই শিক্ষা, চাকরি বা বাণিজ্য সবকিছুতে এগিয়ে আছে। এটা ছাড়াও নতুন ভাষা শেখার আরেকটি বড় উপকারীতা হলো এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যে দারুণ উপকারী। কেউ নতুন ভাষা শিখলে তার মস্তিষ্কের সক্ষমতা বেড়ে যায়। মনে রাখার ক্ষমতা তো বাড়েই সাথে সাথে মাল্টি টাস্টিং হয়ে উঠে। সে অন্যদের তুলনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অনেকেই হয়ত আলঝেইমার্স ও ডিমেনশিয়ার রোগের কথা শুনেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে যারা নতুন ভাষা শিখে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকিটা কম।
 
কিন্তু আমরা কেন এই ভাষা শিখব সেই বিষয়টা জানা দরকার।
 

ফরাসি ভাষা বা ফ্রেঞ্চ ভাষার ইতিহাস

 
এই ভাষা অনেকগুলো ভাষা নিয়ে প্রভাবিত একটি ভাষা। বিশেষ করে রোমান, গ্রিক, সেল্ট, ফ্রাংক ও জার্মানিক উপজাতি ও আরবদের ভাষার প্রভাবে তৈরি হয়েছে আজকের ফ্রেঞ্চ ভাষা। ফ্রান্সে ফ্রাংক উপজাতিরা সংখ্যালঘু হিসেবে প্রবেশ করলেও ধীরে ধীরে তারা প্রভাবশালী হয়ে উঠে। সে সময় ফ্রান্সে ল্যাটিন ভাষার প্রচলন ছিল। সেই ল্যাটিনের সাথে তাদের ভাষার মিশেলেই তৈরি এই ভাষা।
 
ভাষাগোষ্ঠীর নিরিখে এটি পৃথিবীর ষষ্ট বৃহত্তম ভাষা। পৃথিবীতে ৭৫ মিলিয়ন মানুষ এই ভাষা ব্যবহার করে। আফ্রিকার ১৫টি দেশের ভাষা এটি। ইউরোপে ফ্রান্স ছাড়াও বেনিন, বুরকিনা ফাসো, হাইতি, লুক্সেমবার্গের ভাষা এটি। এছাড়াও কানাডা, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডে অফিসিয়াল ভাষা এটি। কয়েকটি দেশে এই ভাষা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন, মরক্কো, তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া।
 
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজীর পরই এই ভাষার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। জাতিসংঘের দুটো দাপ্তরিক ভাষার একটি এটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে তিনটি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে তার একটি এটি। এর বাইরে রেড ক্রস, ন্যাটো, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউরোপিয়ান কাউন্সিল, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, ওইসিডি, অর্গানাইজেশন ফর আমেরিকান স্টেটস, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি, ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্সসহ অসংখ্যা প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ভাষাও এটি।
 
যারা এর মধ্যেই ফ্রেঞ্চ শিখে নিয়েছেন তারা এসব প্রতিষ্ঠানে কাজে অগ্রাধিকার পাবেন। একটা অবাক করা তথ্য হলো ইউরোপীয় ‍ইউনিয়নে পাস করা আইনগুলো প্রথমে প্রকাশিত হয় এ ভাসাতে। পরে সেটি ইংরেজীতে অনুবাদ হয়। ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস, আফ্রিকান কোর্ট অন হিউম্যান এন্ড পিপল’স রাইটস, ক্যারিবিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস, ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটস এই আদালতগুলোর দাপ্তরিক ভাষাও এটি
 
যারা পড়াশোনার সুবিধার জন্যে ভিন্ন ভাষা শিখতে চান তাদের জন্যে এ ভাষা খুব কাজের। বিশেষত ইউরেপ ও কান্ডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির ক্ষেত্রে এই ভাষা শেখা অন্যতম সহায়ক। জাতিসংঘের মিশনসমূহে ফ্রেঞ্চ ভাষায় পারদর্শী ব্যক্তি ক্যাপ্টেন সমমর্যাদায় কাজ করার ‍সসুযোগ পান। এই কাজের বেতনও বিশাল।
 
অনেকেই এটি ভাষা শেখা শুরু করলেও কঠিন ভেবে হাল ছেড়ে দেন। তবে এটা শুনলে অবাক হবেন ইংরেজীর ২৯ শতাংশ শব্দ ফ্রেঞ্চ থেকে নেওয়া। ফলে এই ভাষা পড়তে গেলে ইংরেজীর সাথে মিল পাবেন।
 
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাালয়
 
ঠিকানা : রেজিস্ট্রার অফিস, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ভবন , দ্বিতীয় তলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
 
ফোন: ০২-৯৬৬১৯০০৮৫২০/৮৫২১
 
ইমেইল: iml@du.ac.bd
 
ওয়েবসাইট: http://www.du.ac.bd/academic/department_item/IML
 
এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখানো হয়।
বাংলাদেশে ফ্রেঞ্চ শিখতে চাইলে ফ্রান্স সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত আলিয়ঁস ফ্রসেজে শেখার সুযোগ আছে। এখানে ইউরোপীয়দের মতন করে শেখানো হয় বলে আড্ডা ও গল্পের ফাঁকে বুঝতেই পারবেন না আপনি কখন ফ্রেঞ্চে দক্ষ হয়ে উঠেছেন।
এখানে  ফ্রেঞ্চের ওপর আন্তর্জাতিক ডিপ্লোমা যেমন : DELF, DALF, TEF, TCF, TEF Canada দেওয়া হয়। ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা ও চট্টগ্রামে এর শাখা রয়েছে।
 
প্রতিবছর ৪টি সেশনে ভর্তি নেওয়া হয় এবং প্রতি সেশনের মেয়াদ ৩ মাস। ফরাসি ভাষা আপনাকে সহজ করে শেখানোর জন্য, কয়েকটি লেভেলে ভাগ করা হয়েছে: (A1, A2) (Basic user) এবং (B1, B2) (Independent user)।
 
ঠিকানা : আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ২৬ মিরপুর রোড(৩নং রোর্ডের ধারে), ধানমণ্ডি, ঢাকা -১২০৫।
 
ফোন: +৮৮০১৬৭৮০৮৬৪৪২
 
ইমেইল: info@afdhaka.org
 
ওয়েবসাইট: www.afdhaka.org
 
নিজে শেখার জন্যে অনলাইনে অসংখ্যা ম্যাটেরিয়াল রয়েছে। এর মধ্যে ডুওলিঙ্গো (Duolingo) জনপ্রিয়।
 
আমরা মাতৃভাষাটা অবচেতন মনেই শিখে ফেলি। কিন্তু বিদেশী ভাষা শেখার ক্ষেত্রে আমরা ভড়কে যাই। আপনি যদি ভেবে দেখেন ইংরেজী ডিকশনারীর সব শব্দ আমরা জানি না। তারপরও আমরা কমিউনিকেশন করতে পারি। সেভাবে সময় দিলে এই ভাষাও আমাদের পক্ষে শেখা সম্ভব।
 
তাই অবসরে ন্য কিছু না করে হোক না নতুন ভাষা শেখা!
 
 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x
Close