সাংবাদিকতা করতে হলে

সাংবাদিকতা দিন দিন জনপ্রিয় একটি পেশা হয়ে উঠেছে। একই সাথে এই পেশা যেমন আকর্ষণীয় তেমন ঝুুঁকিপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অসংখ্যা তরুণ এই পেশায় আসতে চাইছে। মনে প্রশ্ন আসতে পারে সাংবাদিকতা কি? কেন করব সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা করতে হলে কি করতে হবে?

একজন সাংবাদিকের কাজ নানা করম হতে পারে। সাধারণত কোন পত্রিকার ম্যাগাজিন, রেডিও কিংবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াার জন্যে সংবাদ জোগাড় , সম্পাদনা ও পরিবেশন করাই একজন সাংবাদিকের কাজ। ডিজিটাল এই যুগে ওয়েবসাইটও সাংবাদিকার মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

একজন সাংবাদিককে সব কাজ করতে হয় না। যিনি রিপোর্টার তিনি সব বিটের রিপোর্ট সংগ্রহ করেন না। নির্দিষ্ট বিট দেওয় থাকে। যেমন, কোন রিপোর্টারের কাজ হতে পারে সারা বছর তিনি ক্রীড়ার নিউজ করবেন। হতে পারে তিনি শুধু ক্রিকেটের নিউজই করবেন।

সাবাংদিকেরদের সাধারণ পদবী হয়ে থাকে সাংবাদিক। আর কাজের বিভাগ হলো গণমাধ্যম। সরকারী, বেসরকারী কিংবা ফ্রিল্যান্সিং তিনভাবেই সাংবাদিকতা করার সুযোগ ররয়েছে। আবার এই কাজগুলো ফুলটাইম ও পার্টটাইম হতে পারে। একজন তরুণ যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে সদ্য যোগ দেয় এই সময়টাকে বলে এন্ট্রি। কিছুদিন পর মিড পর্যায়ে কাজের সুযোগ হয়। এসময় প্রতিষ্ঠান ও কাজ ভেদে বেতনের তারতম্য হতে পারে।

একজন সাংবাদিকের মূল দক্ষতা প্রয়োজন হয় ভাষায়। ভাষায় যার ভাল দখল আছে তার পক্ষে সাংবাদিকতার পথ সুগম হয়। সেই সাথে প্রয়োজন তথ্য অনুসন্ধানে কৌশলী হওয়া। এর সাথে যদি উপস্থাপনায় চতুর হয় ও যোগাযোগে দক্ষ হয় তাহলে সোনায় সোহাগা। এর বাইরে বড় পর্যায়ে কাজ করতে গেলে সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে।

আমরা যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানব

  • সাংবাদিক কোথায় কাজ করেন
  • সাংবাদিক কি ধরনের কাজ করেন
  • সাংবাদিকের কি ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়
  • সাংবাদিকের কি ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হয়?
  • কোথায় পড়বেন সাংবাদিকতা?
  • সাংবাদিকের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?
সাংবাদিক কোথায় কাজ করেন

সাংবাদিকরা সাধারণত পত্রিকা ও টেলিভিশনে কাজ করে থাকেন। এছাড়ও ম্যাগাজিন, রেডিও, সরকারি বাতায়ন বিভাগ, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, প্রকাশনাসংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। সাধারণত বিশ্ববিদ্যাালয়ে থাকা অবস্থায় একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। তারপর পড়ালেখা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষ ও যোগ্য সাংবাদিকদের জন্যে এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি সুযোগ রয়েছে।   এছাড়াও রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত ইউনাইটেড নিউজ এজেন্সি ছাড়াও অনেক মিডিয়াতেই আপনি সম্পাদক, উপ-সম্পাদক কিংবা কলাম লেখক হিসেবে কাজের সুযোগ পাবেন।

ডিজিটাল মাধ্যম অর্থাৎ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি চাইলে বার্তাকক্ষ নিয়ন্ত্রক, আলোকচিত্রী, প্রতিবেদক, উপস্থাপক ও প্রযোজক হিসেবে এসব মিডিয়াতে কাজের সুযোগ পাবেন।

বেতার মাধ্যমের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেতার ছাড়াও ৩০টির বেশি এফএম রেডিও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেগুলোতে প্রতিবেদক, উপস্থাপকসহ নানা পদে কাজের সুযোগ রয়েছে।

এছাড়াও সরকারি-বেসরকার বহু কার্যালয়ে মুদ্রণ, পরিস্ফুটন, বিপণন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজ রয়েছে। তবে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সাংবাদিকতা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

অনলাইন সাংবাদিকতা

মূলধারার সাংবাদিকতার বাইরেও অনলাইন সাংবাদিকতা বা নাগরিক সাংবাদিকতা একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। বিডিনিউজ ব্লগসহ অসংখ্যা ব্লগ রয়েূেছ যেখানে নাগরিক সাংবাদিকতা করা যায়।

সাংবাদিক কি ধরনের কাজ করেন

প্রতিষ্ঠানভেদে সাংবাদিকদের কাজের ধরন আলাদা হয়। সাংবাদিকরা যে ধরনের কাজ করে থাকেন তার একটি তালিকা দেওয়া হলো।

  • সংবাদ সংগ্রহ করা
  • সংবাদের সত্যতা যাচাই করা
  • সংবাদ সম্পাদনা করা
  • প্রয়োজনে মানুষের সাক্ষাৎকার নেয়া
  • বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করা
  • কলাম লেখা ও বাছাই করা
  • তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করা
  • প্রয়োজনীয় ছবি সংগ্রহ করা
সাংবাদিকতা করার যোগ্যতা

অনেকেই মনে করেন সাংবাদিকতা করতে হলে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ালেখা করতে হয়। কিন্তু ধারণাটি ঠিক নয়।  বাংলা, ইংরেজীসহ যে কোন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্নকারীরাই সাংবাদিকতায় আসতে পারেন। তবে যারা সাংবাদিকাত করতেই চান তারা সাংবাদিকতা পড়লে কিছু সুবিধা অবশ্যই পাবেন।

সাংবাদিকের কি ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হয়?

সাংবাদিকতা করতে হলে ইংরেজী ও বাংলা উভয় ভাষাতেই ভাল দক্ষতা থাকা জরুরী। আরো বেশি ভাষা জানা থাকলে কাজের ক্ষেত্রও বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যোগাযোগের ক্ষেত্র দক্ষতা ও অনুসন্ধানী মনোভাব। ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কাজ করার ক্ষেত্রে উপস্থাপন দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছেন। এছাড়ও বড় পরিসরে কাজ করতে হলে বিশ্লেষণী ক্ষমতার দরকার হয়।

তবে শুরু করার আগে নিজের পছন্দের জায়গা ঠিক করে নেওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক বিটে কাজ করতে চাইলে শুরু থেকেই ইন্টারন্যাশনাল পত্রিকাগুলো পড়া থাকলে ভাল কাজে দেবে।

আগে থেকে নিজের পছন্দের বিষয়ে ঠিকভাবে জানা উচিত। যেমন, ক্রীড়া সাংবাদিক হতে চাইলে খেলাধুলা বিষয়ক বই, ম্যাগাজিন ও ওয়েবসাইট থেকে আপডেট নেবার অভ্যাস থাকা কাজে দেবে।

একজন সাংবাদিক হিসেবে কপিরাইট বিষয়ক আইনের জ্ঞান থাকা আপনার জন্য জরুরি। সর্বশেষ যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সৃজনশীলতা। তাই নিজেকে প্রতিনিয়ত সৃষ্টিশীল করে তোলার চেষ্টা থাকা চাই।

সুযোগ পেলে কোন সংবাদপত্রে ইন্টার্নশিপ করতে পারলে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। এছাড়া কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে প্রাধান্য পেতে পারেন চাকরিদাতাদের কাছে।

কোথায় পড়বেন সাংবাদিকতা?

বর্তমানে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাাশি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও গণযোগাযোগ ও সাংবদিকতা বিভাগ খোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই সাংবাদিকতা পড়ানো হয়ে থাকে। এর বাইরে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি,  ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা পড়ানো হয়।

এছাড়াও প্রেস ইন্সটিটিউট অফ বাংলাদেশ (PIB), বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (BIJEM), পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতার উপর  ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়।

সাংবাদিকের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

সাংবাাদিকদের বেতন কম এরকম একটি অভিযোগ প্রায়ই শোন যায়। কিন্তু দিন দিন সাংবাদিকতার সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে সেই অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে। এ পেশায় মূলত অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে বেতনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

সাধারণত জয়েন করার পর কাজ শেখার ক্ষেত্রে লম্বা একটা সময় চলে যায়। ২-৩ বছর কাজ করার পর কাজের মানের উপর ভিত্তি করে স্থায়ী প্রতিবেদকের পদ দেওয়া হয়। তারপর সহকারী সম্পাদকের কাজ করার পর মূল কাজের সাথে যুকত করে নেওয়া হয়।

ইললেকট্রনিক মিডিয়া কিংবা রেডিওতে কাজ করার ক্ষেত্রে শুরুতে প্রতিবেদক কিংবা সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করা যায়। পরবর্তীতে  সম্পাদক, প্রযোজক, বার্তাকক্ষ নিয়ন্ত্রক পদে কাজ করা যাায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x
Close